পেঁয়াজ চাষ করতে পারছেন না কৃষকরা

31

রাজশাহীর পুঠিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে পাঁচ শতাধিক হেক্টর জমিতে সঠিক সময়ে বন্যার পানি বের হতে পারেনি। তাই চলতি বছরে কন্দ (ঢেমনা) জাতের পেঁয়াজ ও রবি সরিষা চাষ করতে পারছেন না কৃষকরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে পুকুর খনন এবং খালবিল দখল করে মাছচাষ করার ফলে বিল এখনও জলাবদ্ধ হয়ে আছে।

স্থানীয়রা জানান, কাশিয়াপুকুর, কার্তিকপাড়া, আড়ল পশ্চিম বিলে অবৈধভাবে মাছ চাষ করছে কালাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি বিলের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে রেখেছেন। তাই সঠিক সময়ে পানি বের হতে পারেনি। এই বিলে প্রতি বছর সরিষা এবং পেঁয়াজের চাষ করা হতো। এ বছর তা হচ্ছে না। বাংলাদেশের তাহেরপুরি জাতের পেঁয়াজ এই এলাকায় উৎপাদন হয়ে থাকে।

এছাড়া ওই বিলে যাদের জমি জলাবদ্ধ হয়ে আছে তারাও তাদের জমিতে মাছ শিকার করতে গেলে কালামের লোকেরা বাধা সৃষ্টি করছে। জলাবদ্ধতার জন্য আগামীতে বোরো জাতের ধান চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে কৃষকদের আশঙ্কা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌরসভা আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গে কালামের সখ্য রয়েছে। এজন্য ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেড়ান তিনি।

৯ অক্টোবর যুগান্তরে পুঠিয়ায় পুকুর ও খালবিল দখল করে মাছ চাষ করায় জলাবদ্ধতায় ৯ হাজার পরিবার- শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করার পর ১০ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসন কালভার্টের বন্ধ থাকা মুখগুলো খুলে দিয়েছিল। উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে আসার পর পুনরায় কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপর একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে বলার পরও ওই বিলের পানি বাহির হওয়া পথগুলো খোলা হয়নি।

বদপাড়া গ্রামের জেকের আলি নামের এক কৃষক বলেন, সড়গাছি গ্রামের নালার মুখটি অবমুক্ত করতে পারলে কয়েকটি বিলের পানি বাহির হতে পারবে। দেশে এখনও ব্যাপক পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। এই মুহূর্তে কৃষকরা পেঁয়াজের চাষ করতে পারলে দেশের পেঁয়াজের চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে।

শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন মুকুল বলেন, অবৈধভাবে যেখানে সেখানে পুকুর খনন করা হয়েছে। যেসব স্থান দিয়ে বন্যার পানি বাহির হয়ে নদীতে পানি যাবে সেসব নালার মুখে বর্তমানে পুকুর খনন করা আছে। রাতোয়াল পমপাড়া বরবরিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি বিলের পানি বাহির হতে পারছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুন নাহার ভূঁইয়া বলেন, অপরিকল্পিত পুকুর খনন করার ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পুকুর খননের আগে আমাদের কাছে কোনোপ্রকার অনুমতি নেয়া হয়নি। আমি নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছি। নভেম্বরের মধ্যে জমি থেকে পানি বাহির করতে না পারলে রবি সরিষা এবং ঢেমনা পেঁয়াজের চাষ কৃষকরা করতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমানা আফরোজ বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ এখনও কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেননি। তারা এলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।