করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু ছাড়ালো ৫ লাখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দৈনিক চট্টগ্রাম >>>
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে।  এ সংখ্যাকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ‘হৃদয়বিদারক মাইলফলক’ বলে উল্লেখ করেছেন।  খবর বিবিসির।
তিনি বলেন, ‘জাতি হিসেবে আমরা এত নির্মম ভাগ্যকে মেনে নিতে পারি না।  দুঃখিত হওয়ার জন্য আমাদের অনুভূতিহীন হওয়া বন্ধ করতে হবে’।
করোনায় মৃতদের স্মরণে সোমবার রাতে হোয়াইট হাউসের বাইরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে অংশ অংশ নেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবং তাদের সঙ্গী/সঙ্গিনী।  সেখানে তারা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
করোনায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৮০ লাখ।  আক্রান্তের সংখ্যাতেও বিশ্বে প্রথম যুক্তরাষ্ট্র।
আমেরিকানদের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানিয়ে বাইডেন বলেন,  ‘আজ আমি সব আমেরিকানদের অনুরোধ করছি মনে রাখতে।  মনে রাখুন আমরা কাদের হারিয়েছি আর মনে রাখুন কাদের আমরা পেছনে ফেলে এসেছি’।
আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বাইডেন।
হোয়াইট হাউসে তিনি বক্তৃতা শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যার সঙ্গে ঐতিহাসিক ঘটনার তুলনা দিয়ে।  তিনি বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে সব মিলিয়ে যত আমেরিকান মারা গেছেন, তার চেয়ে বেশি মারা গেছেন করোনাভাইরাসে।
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি মারাত্মক ও হৃদয়বিদারক মাইলফলক স্পর্শ করেছি- ৫ লাখ ৭১টি মৃত্যু’।
বাইডেন বলেন, ‘আমরা অনেক সময় বলতে শুনি সাধারণ আমেরিকান।  এরকম কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই, তাদের মধ্যে সাধারণ বলে কিছু নেই।  আমরা যাদের হারিয়েছি তারা অসাধারণ ছিলেন। তারা প্রজন্ম পার করেছেন।  তারা আমেরিকায় জন্মেছিলেন, আমেরিকায় এসেছিলেন’।
‘তাদের অনেকেই আমেরিকায় একা একা তাদের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন’, বলেন বাইডেন।
বক্তব্যে নিজের স্ত্রী ও মেয়ের কথা স্মরণ করেন বাইডেন যারা ১৯৭২ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।  এবং নিজের ছেলের কথাও তিনি উল্লেখ করেন যিনি ২০১৫ সালে মস্তিষ্কের ক্যান্সারে মারা গেছেন।
বাইডেন বলেন, ‘দুঃখ ও শোকের মধ্য দিয়ে যাওয়া আমার জন্য ছিল উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া’।
এ দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এক হাজার মৃতের স্মরণে ওয়াশিংটনের জাতীয় ক্যাথেড্রালে একবার করে মোট ৫শ বার ঘণ্টা বাজানো হয়।

ডিসি/এসআইকে/এমএস