চট্টগ্রামে পুলিশের স্ত্রীকে গণধর্ষণের কথিত অভিযোগ, ধর্ষককে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

203

দৈনিক চট্টগ্রাম ডেস্ক >>>
চট্টগ্রামে এক পুুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।  এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন নামে একজনকে গোপন টর্চার সেলে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।  ভিডিওতে দেখা যায়, আনোয়ার হোসেন নামে ওই ধর্ষকের চুল কেটে দিচ্ছে পুলিশ কনস্টেবল নিজেই।  এরপর জুতার মালা গলায় পরিয়ে এক শিশু কন্যাকে দিয়ে গালে জুতো দিয়ে মারা হচ্ছে।  এমনকি তাকে একাধিকবার লাথিও মারা হয়েছে।  ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্য বলছে, জানিস তুই এখন কোথায় আছিস?  এক বড় পুলিশ অফিসারের বাড়িতে।  আমার ছোট ভাই মোহাম্মদ আরিফ র‌্যাবের বড় অফিসার।  তোকে এখন মেরে ফেলে দিলেও আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না।
আর সেই আরিফের সূত্র ধরে জানা গেল পুলিশ সদস্য আর কেউ নয়, কনস্টেবল নেছার উদ্দিন (৪৫)।  তার বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের উত্তর দেয়াং কোর্টপাড়া এলাকায়।  তিনি চট্টগ্রাম কর্ণফুলী থানা থেকে বদলি হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামের আদালতে কর্মরত।  তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আরিফ চট্টগ্রাম নগর পুলিশের পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) হিসেবে চট্টগ্রাম আদালতে কর্মরত আছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন চট্টগ্রামের পটিয়ার ৭ নম্বর জিরি ইউনিয়নের উত্তর দেয়াং কোর্টপাড়া এলাকার আজম আলী হাজির বাড়ির মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে।  নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমার দুলাভাইয়ের মাধ্যমে কৌশলে আমাকে ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ কনস্টেবল নেছার।  দুলাভাইকে বাইরে বসিয়ে রেখে আমাকে নেওয়া হয় গোপন টর্চার সেলে।  সেখানে আমার ওপর শুরু হয় নির্যাতন।  আমাকে উলঙ্গ করে পেটায় সে।  উলঙ্গ অবস্থায় আমার ভিডিও ধারণ করে।  এরপর আমাকে জুতার মালা পরানো হয়।  একপর্যায়ে নেছার নিজের বীর্য বের কেরে আমাকে জোর করে খাইয়ে দেয়।  আমার সাথে যা হয়েছে তা বর্ণনারও অযোগ্য।  তার স্ত্রীর সাথে আমার পরকীয়া ছিল শুধুমাত্র এ সন্দেহে নেছার এমন ভয়ানক নির্যাতন চালিয়েছে।  আনোয়ার হোসেন বলেন, কনস্টেবল নেছার তার স্ত্রীর সঙ্গে আমাদের এলাকার সাজ্জাত হোসেন রুবেল ও আমার সাথে মেলামেশা আছে এমন স্বীকারোক্তি দিতে বলে।  আমি রাজি না হওয়ায় শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের পর আমি তার শিখিয়ে দেওয়া কথা বলতে বাধ্য হই।  এরপর নেছার হুমকি দেয় বীর্য খাওয়ানো ও উলঙ্গ ছবি ভাইরাল করে দেবে।  সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে নেছারের ভয়ে আমি গ্রাম ছেড়ে শহরে আত্মগোপনে আছি।  এ বিষয়ে জানতে নেছার উদ্দিনের ব্যক্তিগত মুঠোফোন কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করনেনি।
তবে তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আরিফ বলেন, আমার বড় ভাই নেছার উদ্দিন কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।  ওইসময় ওনার স্ত্রীকে বাড়িতে একা পেয়ে গণধর্ষণ করে রুবেল ও আনোয়ারসহ আরও অনেকেই।  এ ঘটনায় গত ২৬ জুন আমার ভাবী বাদি হয়ে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন পটিয়া থানায়।  এবার আপনি বলুন একটি গণধর্ষণের মতো ঘটনা হওয়ার পর তারা কী রকম আচরণ আশা করে?
এ বিষয়ে পটিয়া থানার একজন উপ-পরিদর্শক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশ কনস্টেবল নেছার উদ্দিনের স্ত্রী থানায় গণধর্ষণের একটি মামলা দায়ের করেছেন।  মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।  পুলিশ আসামিদের খুঁজছে।
এদিকে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, কনস্টেবল নেছার উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নিজের পুলিশের চাকরি ও আপন ভাইয়ের পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে লোকজনকে ধরে নিয়ে তার গোপন টর্চার সেলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনসহ নানা অপকর্ম করত।  সেখানে লোকজন ধরে নিয়ে জিম্মি করে অর্থও আদায় করতো।  তার স্ত্রীকে গণধর্ষণের বিষয়টি নিয়েও এলাকার জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র- মানবজমিন

ডিসি/এসআইকে/এসএজে