করোনায় আরও ৩৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৩০০৯

56

দৈনিক চট্টগ্রাম ডেস্ক >>>
দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯ জন।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বুধবার (২৯ জুলাই) নিয়মিত বুলেটিনে দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।
এদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৩ হাজার ৯ জনকে নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ১৯৪ জন হলো।  আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ৩৫ জনকে নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ৩৫ জনে।  আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ৮৭৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত একদিনে।  তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৩০ হাজার ২৯২ জন।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, তা ২ লাখ পেরিয়ে যায় ১৮ জুলাই।  এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।  সংক্রমণ শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।  মঙ্গলবার সেই সংখ্যা ৩ হাজার স্পর্শ করে।  এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয় বুলেটিনে, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
ড. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের ৩০ জন পুরুষ, ৫ জন নারী।  ২৯ জন হাসপাতালে এবং ৬ জন বাড়িতে মারা গেছেন।  এই ৩৫ জনের মধ্যে ১ জনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি।  এছাড়া ৭ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১২ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৬ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।  তাদের ১৪ জন ঢাকা বিভাগের, ৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪ জন বরিশাল বিভাগের, ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।  এছাড়া খুলনা, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ২ জন করে মারা গেছেন।
নাসিমা সুলতানা জানান, এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৩ হাজার ৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ৩৮৮ জন পুরুষ এবং ৬৪৭ জন নারী।  তাদের মধ্যে এক হাজার ৩৯৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি।  এছাড়া ৮৭৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৪৩১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২০১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৮৫ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৩০ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ১৮ জনের বয়স ১০ বছরের কম ছিল।
১ হাজার ৪৫৮ জন ঢাকা বিভাগের, ৭৩৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ১৭৯ জন রাজশাহী বিভাগের, ২১৪ জন খুলনা বিভাগের, ১১৯ জন বরিশাল বিভাগের, ১৪৬ জন সিলেট বিভাগের, ১১৫ জন রংপুর বিভাগের এবং ৬৫ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
নাসিমা সুলতানা জানান, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার নতুন একটি ল্যাব যুক্ত হয়েছে।  এছাড়া কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে একটি পিসিআর মেশিন বসানো হয়েছে।
বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ২৫৩ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।  এর মধ্যে সারাদেশে ৮২টি ল্যাবে ১৪ হাজার ১২৭ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।  এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখ ৫১ হাজার ২৫৮টি।  ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ।  শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ১১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

ডিসি/এসআইকে/এমএসএ