কক্সবাজারে মানব শূন্য বৈশাখের প্রথম দিন

122

ফারুক রিয়াদ, কক্সবাজার থেকে >>> 
কোনো ধরনের অনুষ্ঠান উদযাপন ছাড়াই এবার কেটেছে বৈশাখের প্রথম দিন। বৈশাখ মানেই পর্যটন নগর কক্সবাজারে লোকে লোকারণ্য। আর বৈশাখের আগের দিন থেকে পরের দুইদিন পর্যন্ত থাকে নানান বিশেষ উৎসব, মেলা ইত্যাদি। কিন্তু এবার সেই লোকে লোকারণ্য থাকা কক্সবাজার যেন নিঃসঙ্গ নগর। কোথাও ছিল না জনমানব। ছিল না বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের কোনো আয়োজনও। চারদিকে যেন নিস্তব্ধতা গিলে খেয়েছে এই পর্যটন নগরীকে।
গেলো বাংলা বছরগুলোর মতো ছিলো না সেজেগুজে উঠতি কিশোর-তরুণ-তরুণীদের ঢং মাখানো কোলাহল। হোটেলগুলোতে ছিলো না কোনো আলোকসজ্জা। অন্য সকল বছরে বাংলা নববর্ষের আগে-পরের দিন লক্ষপ্রাণের মেলা বসতো কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ সাগড়পাড় আর বালুচড়ে। চলতো মেলাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরনো বছরের ভুল, পাওয়া-না পাওয়ার বেদনা, গ্লানি আর অপরাধ মুছে অপ্রিয় মানুষটির সাথেও কুশল বিনিময় করতেন বাঙালি। থাকতো নানান ধরনের বাঙালি খাবার-দাবারের আয়োজন। তরুণ-তরুণীরা তৈরি করতেন নানান রকম পিঠা। দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসতো হাজার হাজার পর্যটক।
কিন্তু এবার চলমান বিশ্ব মহামারী করোনা নামক অদৃশ্য শক্তির কাছে আজ পরাজিত সকল সংস্কৃতি। বাংলা নববর্ষে যেখানে মানুষে মানুষে মিলনমেলা ঘটতো, সেখানে এই মহামারির কারণে আজ মানুষে মানুষে সামাজিক দুরত্বের কথা বলা হচ্ছে।
 এই বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনা ভাইরাস ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তার আগ্রাসন শুরু করেছে। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৩১ জনে। মৃত্যুর সংখ্যাও প্রতিদিন বাড়ছে। দেশের মানুষ বাঁচাতে তাই সরকার সারাদেশকে বিচ্ছিন্ন করেছে জেলা থেকে জেলা, গ্রাম-থেকে গ্রাম কিংবা শহর থেকে শহরকে। আর এর প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনৈতিক খাতে। কক্সবাজারের অর্থনৈতিক মেরুদন্ডেও আঘাত হেনেছে এই মহামারি। ফলে ছোট-বড় প্রায় চারশত হোটেল এবং পর্যটন কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আজ নিথর, ভুতুরে পরিবেশে পরিণত হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় অর্ধ লাখেরও বেশী মানুষ। যা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শহরের বেশির ভাগ মানুষ এই পর্যটন ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। তাই সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছেন এখানকার স্থানীয় জনগণ। শহরের নিম্ন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর এই প্রভাবটি বেশী লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই ধনী-গরিব সবাইকে ঐক্যবধ্য হয়ে একে অপরের সহযোগিতায় থাকতে হবে। এই অদৃশ্য এই শক্তির বিরুদ্ধে সচেতনতার সাথে ঘরে থেকে লড়াই করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

ডিসি/এসআইকে/এফআর