খাগড়াছড়ির কলার কদর দেশজুড়ে

54

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, দৈনিক চট্টগ্রাম >>>
পার্বত্যজেলা খাগড়াছড়ির কলার বেশ কদর দেশজুড়ে।  বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে সারা বাংলাদেশেই পৌঁছে যাচ্ছে এই অঞ্চলের কলা।  পাহাড়ের কলা বলে এর চাহিদা যেমন বেশি, তেমনি স্বাদেও অন্যান্য অঞ্চলের কলার চেয়ে মিষ্টিও।  এই কলা সারাদেশের চাহিদা মেটানোর মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন পাহাড়ের কৃষকেরা।  বেশ সুস্বাদু হওয়ায় বিভিন্ন জেলায় এই অঞ্চলের কলার চাহিদা অনেক বেশি।
জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাহাড়ি টিলা পথে কলা নিয়ে আসা হয় খাগড়াছড়ি কলা বাজারে।  সেখান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা কলা কিনে পণ্যবাহী ট্রাকের মাধ্যমে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ঢাকাসহ সারাদেশে নিয়ে যায়।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাহাড়ে দুই জাতের কলা বেশি দেখা যায়।  একটি বাংলা কলা।  অন্যটি চাপা কলা, যার স্থানীয় নাম চম্পা কলা।  উঁচু পাহাড়ের মাটিতে জন্মায় বলে এগুলোকে পাহাড়ি কলাও বলা হয়।  পুষ্টিগুণ বেশি হওয়ায় চাপা কলার চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয় বাংলা কলা।  সারা বছর এসব কলার ফলন পাওয়া গেলেও আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসে ফলন মেলে সবচেয়ে বেশি।  এ সময় পাওয়া কলাগুলো আকারেও বড় হয়।
বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সৃজনের সময় প্রচুর কলা এই জেলা থেকে সরবরাহ করা হয়।  প্রতি বুধবার বাজার দিন ১৫-২০ গাড়ি কলা যায় শহরে।  এছাড়াও প্রতিদিন বিভিন্ন বাজার থেকে অনেক কলা সারা দেশে যায় এই জেলা থেকেই।
কুমিল্লা থেকে খাগড়াছড়ির কলা বাজারে আসা ব্যবসায়ী আলতাফ উদ্দিন জানান, সমতল এলাকার কলা আর পাহাড়ের কলার মধ্যে পার্থক্য অনেক।  খাগড়াছড়ি থেকে কলা নিয়ে বাজারে বসে থাকতে হয় না।  এগুলো সবাই লুফে নেয়।  সমতল এলাকায় এসব পাহাড়ি কলার চাহিদা বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতি বছর কলার দাম বাড়ে।  এ বছরও বেড়েছে।  প্রতি ছড়া (কমপক্ষে ১০০টি) কলার মানভেদে ১০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কিনে থাকি।  কিছু কিছু এলাকার কলার ছড়া এত বড় হয়, সেগুলো ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় কিনতে হয়।
খাগড়াছড়ি কলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, এই বাজার থেকে সাপ্তাহিক বাজারে বাইরে থেকে অনেক ব্যবসায়ী আসেন।  প্রতি বাজারে ব্যবসায়ী এবং কৃষকের মাঝে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়ে থাকে।  এতে করে কৃষকরা বাজারে কলা এনে অপেক্ষা করতে হয় না।  খুব সহজে উপযুক্ত দামে কলা বিক্রি করে বাড়ি চলে যেতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মর্ত্তুজা আমীন বলেন, চাপা ও বাংলা কলা পাহাড়ের মাটিতে ভালো হয়।  সমভূমিতে এগুলোর ফলন হয় না।  পাহাড়ের মাটিতে এসব কলা নিজ থেকেই বেড়ে ওঠে।  তেমন পরিচর্যারও প্রয়োজন পড়ে না।  শুধু কলা চারার আশপাশের জঙ্গল পরিষ্কারসহ মরা পাতা ও অতিরিক্ত চারা কেটে ফেলে দিলেই হয়।  এটি অনেক লাভজনক ফল।  এটি চাষে কোনো কৃষকের লোকসান হয় না।

ডিসি/এসআইকে/এমএসএ