যে কারণে ‘ইউ-টার্ন’ নিলেন মেসি

55

ক্রীড়া ডেস্ক, দৈনিক চট্টগ্রাম >>>
‘এখন আমি বাধ্য হয়ে খেলব এই মৌসুম (২০২০-২১)।  না হয় আমাকে ক্লাব ছাড়তে ৭০০ মিলিয়ন রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করতে হবে, যেটা একেবারেই অসম্ভব বিষয়’- লিওনেল মেসির এ কথায় পরিষ্কার, তিনি সত্যিই এ মৌসুমে ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন, যেতে চেয়েছিলেন অন্য কোনো ক্লাবে।
কিন্তু প্রায় দশ দিন ধরে চলা নানান নাটকীয়তার পর, অবশেষে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ‘আরও এক বছর বার্সায়ই থাকছি আমি’। কিন্তু হঠাৎ করেই কেনো এই ইউ-টার্ন? কেনো সিদ্ধান্ত বদলে, নিজের মতের বিরুদ্ধে বাধ্য হয়ে এক মৌসুম বার্সায় থেকে যাচ্ছেন মেসি? সঙ্গত কারণেই উঠছে এই প্রশ্ন।
এর উত্তর দিয়েছেন মেসি।  ফুটবলভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট গোল ডট কমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গত সপ্তাহদেড়েক ধরে চলমান ঘটনা এবং এরও আগে থেকে চলে আসা ঘটনার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে খোলামেলাই কথা বলেছেন মেসি।  যেখানে জোসেফ বার্তেম্যুর অধীনে বর্তমান বোর্ডকেও রীতিমতো প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি।
২০২০-২১ মৌসুমে নতুন ক্লাবে যেতে হলে মেসি তথা তার নতুন দলকে পরিশোধ করতে হতো ৭০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা)।  যা বর্তমান সময়ে অসম্ভবই বলা চলে।  তবে মেসির সামনে খোলা ছিলো আইনি লড়াইয়ের পথ।  দীর্ঘ ২০ বছর ধরে খেলা ক্লাবে বিপক্ষে আদালতে যেতে পারতেন তিনি।  কিন্তু এটিই চাননি মেসি।
প্রিয় ক্লাবকে আদালতে নেয়ার ইচ্ছেই ছিল না তার, ‘আমাকে এবং বার্সেলোনাকে জড়িয়ে অনেক মিথ্যা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।  যা আমাকে ব্যথিত করে।  তারা ভেবেছে আমি নিজের সুবিধার জন্য কোর্টে যাব।  আমি এমনটা কখনও করব না।  কারণ আমি বার্সাকে ভালোবাসি’।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি কখনও বার্সার বিপক্ষে মামলায় যেতে চাই না।  এই ক্লাব আমাকে সবকিছু দিয়েছে, যখন থেকে আমি এখানে এসেছি।  বার্সা আমার জীবনের মতোই প্রিয় এবং এখানেই আমি আমাকে খুঁজে পেয়েছি।  বার্সা আমাকে সবকিছু দিয়েছে আমিও বার্সাকে সবকিছু দিয়েছি।  তাই আমার ক্লাবের বিপক্ষে আমার কোর্টে যাওয়ার চিন্তা কখনওই আসেনি’।
এমনকি বাধ্য হয়ে আসন্ন মৌসুমটা ক্লাবে থাকলেও, নিজের মাঠের পারফরম্যান্সে এর প্রভাব পড়তে দেবেন না বলেও জানিয়েছেন মেসি।  বরাবরের মতোই বার্সেলোনা এবং নিজের জন্য সেরাটা দিতে আত্মপ্রত্যয়ী ছয়বারের ব্যালন ডি অর জয়ী এ ফুটবলার।
তার ভাষ্য, ‘আমি বার্সাতেই থাকছি এবং আমি যতোই চলে যেতে চেয়েছিলাম না কেনো আমার মনোভাব আগের মতোই থাকবে।  আমি আমার সর্বোচ্চটাই দিবো।  আমি সবসময় জিততে চাই।  আমি প্রতিযোগিতায় থাকতে পছন্দ করি এবং কখনও হারতে চাই না।  আমি সবসময় ক্লাবের জন্য, ড্রেসিংরুমের জন্য এবং নিজের জন্য সেরাটাই চাই’।
গত কয়েকদিন ধরে মনের মধ্যে চলা ঝড়ের ব্যাপারে মেসির খোলামেলা স্বীকারোক্তি, ‘আমি একা অনুভব করিনি।  কিছু মানুষ ছিলো যারা আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছে।  তবে কিছু কিছু ব্যাপার আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে।  বার্সেলোনার প্রতি আমার দায়িত্ব-ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।  আমি এইরক‌ম প্রশ্ন আশা করিনি।  তবে এটা আমাকে সত্যিকারের মানুষ চিনতে সাহায্য করেছে।  এই ফুটবল বিশ্ব অনেক কঠিন এবং এখানে অনেক মুখোশধারী মানুষ।  এইসব কিছু আমাকে মুখোশের আড়ালের মানুষদের চিনিয়েছে।  তবে ক্লাবের প্রতি আমার ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় আমি খুব কষ্ট পেয়েছি।  আমি যত দূরে যাই কিংবা থাকি ক্লাবের প্রতি আমার ভালোবাসা পাল্টাবে না’।

ডিসি/এসআইকে/এমএসএ